উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে জঙ্গি নাটকের বৈধতা তৈরিতে কাজ করছে বিভিন্ন নিউজ পোর্টাল

বাংলাদেশে স্বৈরাচার হাসিনার দীর্ঘ ১৫ বছরের দুঃশাসনে বিরোধীদলীয়দের ওপর দমন-পীড়ন ছিলো আওয়ামীলীগ সরকারের অন্যতম কাজ। জেল, জুলুম, গ্রেপ্তার, গুম, খুন করে নিজের ক্ষমতা টিকিয়ে রাখতে বিন্দু মাত্র ছাড় দেয়নি হাসিনা। গণতান্ত্রিক দলগুলোর নেতাকর্মীদের দমন-পীড়নে গ্রেপ্তার, জেল, জুলুম এবং গুমকে হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করলেও এর বিপরীতে ইসলামপন্থীদের দমনে হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা হয় পুলিশ, র্যাবের যৌথ প্রযোজনায় জঙ্গি নাটক। হলি আর্টিজনে হামলার পর থেকে বাংলাদেশে যত জঙ্গি দমনের অভিযান হয়েছে তার প্রায় সবগুলোই ছিল সাজানো নাটক। (স্ক্রিপ্টেড)
হাসিনার দুঃশাসনে তথাকথিত কিছু জঙ্গি অভিযানের আসল বাস্তবতা দেখুন, কিভাবে বাংলাদেশে জঙ্গি নাটক সাজিয়ে বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড সংঘটিত করেছে সিটিটিসি, র্যাবসহ পুলিশের বিভিন্ন ইউনিট

জঙ্গি নাটক সাজাতেন সিটিটিসির আসাদুজ্জামান https://youtu.be/yBKlWp8HBUU

২০১৬'র কল্যাণপুরে জঙ্গি নাটক সাজিয়ে ৯ জনকে হত্যা https://youtu.be/hJX82XTSS-0

জঙ্গি নাটক সাজিয়ে যেভাবে হত্যা করা হয় মেজর জাহিদকে https://youtu.be/m1c9q4FQtCw
এই ঘটনাগুলোকেই এক সময় মিডিয়ায় ঘটা করে প্রচার করা হতো বিশ্বের সামনে, আর বাংলাদেশকে উপস্থাপন করা হতো জঙ্গি রাষ্ট্র হিসেবে।
হাসিনার আমলে এভাবেই কথিত জঙ্গি নাটক সাজিয়ে শতশত তরুনকে হত্যা করেছে বাংলাদেশের তথাকথিত সন্ত্রাস দমনে কাজ করা এন্টি টেররিজম ইউনিট (ATU), কাউন্টার টেরোরিজম এন্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (CTTC), র্যাপিড একশন ব্যাটালিয়ন (RAB) সহ হাসিনার পালিত গোয়েন্দা সংস্থার কর্মকর্তারা। ২০২৪ সালে জুলাই অভ্যুত্থানের পর ভেঙে পড়ে হাসিনার তৈরিকৃত জঙ্গি নাটকের প্রযোজনা এবং তথাকথিত সব অভিযান। প্রায় ১১ মাস ধরে বাংলাদেশে কোন জঙ্গি বের না হওয়ায় এই ইউনিটগুলো কর্মশূন্য হয়ে পড়ে।
কথিত কিছু নামধারী মিডিয়া আবারো হাসিনার ন্যায় জঙ্গি নাটক মঞ্চস্থ করার অপচেষ্টা চালাচ্ছে। স্বৈরাচারী হাসিনার আমলের সন্ত্রাস বিরোধী আইনের মামলায় যারা সম্পৃক্ত টার্গেট করে আবারো ইসলামপ্রিয় ব্যক্তিবর্গদের হয়রানির চেষ্টা চালানো হচ্ছে।
সম্প্রতি, বাংলা আউটলুক নামের নিউজ পোর্টালে একটি আর্টিকেল প্রকাশিত হয়েছে, যার শিরোনাম ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসে হামলার পরিকল্পনা; ওয়াশিংটনের গোয়েন্দা তথ্যে বাংলাদেশে তৎপরতা। এই প্রতিবেদনে বলা হয়, ঢাকাস্থ মার্কিন দূতাবাসে কোনো বিশেষ ধর্ম পালনকারী কর্মীকে বা বাংলাদেশি কর্মীকে অপহরণ করে হত্যা এবং দূতাবাসে হামলার পরিকল্পনার গোয়েন্দা তথ্য পাওয়ার পর ড. মুহাম্মদ ইউনুস নেতৃত্বাধীন বাংলাদেশের অন্তর্বর্তীকালীন সরকার নড়ে চড়ে বসেছে। এই নিউজ পোর্টাল নিজেদের সংগ্রহীত তথ্যের ওপর ভিত্তি করে প্রতিবেদনটিতে লিখেছে; ওয়াশিংটনের গোয়েন্দা তথ্য পাওয়ার পর শামীন নামের এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে আন্তঃরাষ্ট্রীয় সন্ত্রাসবাদ দমনে কাজ করেন এমন অন্তত চারজন ব্যক্তি এবং গোয়েন্দা তথ্যটির সম্পর্কে ধারণা আছে এমন একজন কর্মকর্তা বলছেন, সেখানে জামাতুল আনসার ফিল হিন্দাল শারক্বীয়া এবং এ কিউ আইএসের জড়িত বলে সন্দেহ করা হচ্ছে।
গোয়েন্দা প্রতিবেদনটিতে কোনো সুনির্দিষ্ট টার্গেটের কথা উল্লেখ করা হয়নি, কেবল আক্রমণের পরিকল্পনা হয়েছিল বলে বলা হয়েছে।
অন্যদিকে গেলো ১০ জুলাই দুপুরে বাংলাদেশ সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা অবসরপ্রাপ্ত লেফটেন্যান্ট জেনারেল মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরীর সঙ্গে তাঁর অফিসে বাংলাদেশে নিযুক্ত যুক্তরাষ্ট্রের চার্জ দ্যা অ্যাফেয়ার্স মেগান বোলডিন (Megan Bouldin) সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন। সেখানে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা বাংলাদেশের নিরাপত্তা খাতে যুক্তরাষ্ট্রকে আরও সহযোগিতার আহ্বান করেন। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ কর্মকর্তা (পরিচালক) ফয়সল হাসান এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানান, ‘বাংলাদেশের নিরাপত্তা খাতে সহযোগিতার প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করে চার্জ দ্যা অ্যাফেয়ার্স বলেন, “প্রতিটি দেশই কম-বেশি সন্ত্রাসবাদ ও জঙ্গি হামলার ঝুঁকিতে থাকে। বাংলাদেশও এর ব্যতিক্রম নয়। যদিও বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে অনেক রাজনৈতিক নির্যাতন ও নিপীড়নের ঘটনাকে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করার উদ্দেশ্যে জঙ্গিবাদ বলে অভিহিত করা হয়েছিলো। তারপরও বাংলাদেশকে এ বিষয়ে সতর্ক থাকা উচিত।”’
খোদ মার্কিনিরা বাংলাদেশে কথিত জঙ্গিবাদের ঘটনাগুলোকে এভাবে দেখছে। বিপরীতে দেশের কিছু নামধারী মিডিয়া যারা অতীতেও হাসিনার আমলে জঙ্গি নাটক মঞ্চায়ন করতে সহায়তা করে গিয়েছেন, তারা আবারো এটাকে সামনে এনে দেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করার অপচেষ্টা করে যাচ্ছে।

তথাকথিত জঙ্গি সংগঠন “জামাতুল আনসার ফিল হিন্দাল শারক্বীয়া” নিয়ে অনুসন্ধানী সাংবাদিক জুলকারনাইন সায়েরের টাইমলাইন থেকে সংগ্রহ করা পোস্ট
