জোনায়েদ সাকি'র নারী বিদ্বেষী বক্তব্যের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ সম্মেলন নারী অধিকার সুরক্ষা কমিউনিটির

ট্রান্সজেন্ডার অধিকারকর্মী সাফওয়ান চৌধুরী রাবিল ওরফে সাহারা চৌধুরীর পক্ষে ফেসবুকে অবস্থান নেওয়ায় গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়ক জোনায়েদ সাকিকে তার সংগঠন থেকে বহিষ্কারের দাবি জানিয়েছে নারী অধিকার সুরক্ষা কমিউনিটি। গতকাল বৃহস্পতিবার বিকেলে রাজধানীর হাতিরপুলে গণসংহতি আন্দোলনের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে অবস্থান কর্মসূচিতে এই দাবি জানান নারী অধিকার সুরক্ষা কমিউনিটির সদস্যরা। সংগঠনটির অভিযোগ, জোনায়েদ সাকি তার ফেসবুক পেজে এমন এক মন্তব্য করেছেন, যা নারী অধিকার ও মর্যাদার প্রতি সরাসরি আঘাত হেনেছে। ওই মন্তব্যে নারী-পুরুষের প্রাকৃতিক সীমারেখা অস্বীকার করে ট্রান্সজেন্ডার ও সমকামী গোষ্ঠীকে নারীর সমপর্যায়ে দাঁড়ানোর প্রচেষ্টা রয়েছে বলেও অভিযোগ করা হয় কর্মসূচিতে।
সম্প্রতি সাকি ফেসবুকে ‘মব সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ হোন!’ শিরোনামে একটি লেখা পোস্ট করেন। এতে তিনি লেখেন, “মব সন্ত্রাস করে ট্রান্স অধিকার এক্টিভিস্ট সাহারা চৌধুরীকে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বহিষ্কার করার নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাই।” বহিষ্কাদেশকে বেআইনি দাবি করে তা প্রত্যাহারের দাবি করে তিনি আরও লেখেন, “জাতি-ধর্ম-শ্রেণি-লিঙ্গ পরিচয় নির্বিশেষে প্রত্যেক নাগরিকের অধিকার, মর্যাদা ও জীবনের নিরাপত্তা রাষ্ট্রকেই নিশ্চিত করতে হবে।”
সাকির ফেসবুক পোস্টটি পড়ে শুনিয়ে নারী অধিকার সুরক্ষা কমিউনিটির প্রেসিডিয়াম সদস্য তাসফিয়া ইসলাম বলেন, সাহারা চৌধুরী তার প্রকৃত নাম নয়। তার জাতীয় পরিচয়পত্রে লিঙ্গ দেওয়া ‘পুরুষ’। কিন্তু বর্তমানে তিনি নিজেকে মেয়ে মনে করেন।
সেই ট্রান্সজেন্ডার অধিকারকর্মী সাফওয়ান চৌধুরী রাবিল ওরফে সাহারা চৌধুরী তার ফেসবুক পোস্টে রাষ্ট্রের কিছু সম্মানিত ব্যক্তিকে ‘হুমকি’ দিয়েছেন এবং ক্যাম্পাসে ছুরি বহন করেছেন। অন্য শিক্ষার্থীরা তার সঙ্গে ক্লাস করতে অস্বীকৃতি জানানোর ফলে বিশ্ববিদ্যালয় তাকে বহিষ্কার করেছে।
সাহারা চৌধুরী তার ফেসবুক পোস্টে অস্ত্র তৈরি করা শেখান দাবি করে তাসফিয়া আরও বলেন, “তিনি ট্রান্সদের অধিকারকর্মী হয়ে কাজ করেন। এছাড়াও বিশ্ববিদ্যালয়ে তিনি ধারাল ছুরি নিয়ে ঘুরেন।” তাসফিয়া আরো বলেন, “বাংলাদেশের বিশ্ববিদ্যালয়কে জোনায়েদ সাকি কেমন দেখতে চান? তিনি কি সন্ত্রাসীদের অভয়ারণ্য হিসেবে বিশ্ববিদ্যালয়কে দেখতে চান?” গণসংহতি আন্দোলনের নেতার মতাদর্শকে সমাজবিধ্বংসী দাবি করে মানববন্ধনে বলা হয়, “তাই জোনায়েদ সাকিকে ভোট দেওয়া যাবে না যতক্ষণ না তিনি এটা থেকে সরে আসছেন, এ বিষয়ে ক্ষমা চাচ্ছেন বা বিবৃতি দিচ্ছেন।
“দ্বিতীয়ত, আমাদের সন্তানদের বা তরুণ প্রজন্মকে যদি সুরক্ষিত রাখতে হয় তাহলে এর বিরুদ্ধে দাঁড়াতে হবে। কারণ এখানে সকলের অধিকার জড়িত।”
মানববন্ধনে সাকিকে গণসংহতি আন্দোলন থেকে বহিষ্কার করতে, তার ফেসবুক পোস্ট মুছে ফেলা এবং ক্ষমা চাওয়ার দাবি জানিয়ে তাসফিয়া বলেন, “আমরা এখানে আল্টিমেটাম দিতে এসেছি। যদি দেখি এই অবস্থার কোনো পরিবর্তন হয়নি, তাহলে পরবর্তীতে কঠোর কর্মসূচিতে নামব।”
সোর্স: দেশকাল নিউজ
