শহীদ আবরার ফাহাদ, বাংলাদেশে ভারতীয় আগ্রাসন বিরোধী আন্দোলনের প্রথম শহীদ

স্বাধীন বাংলাদেশের ইতিহাসে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে রাজনৈতিক কারণে বহু হত্যাকান্ডের ঘটনা ঘটেছে। হত্যাকান্ডের পরপরই তা নিয়ে হয়তো ব্যাপক হৈচৈ হয়েছে। কিন্তু আবরার ফাহাদের হত্যাকান্ডের মাধ্যমে সমগ্র দেশের মানুষের চিন্তা ও চেতনার মাঝে যে পরিবর্তন এসেছে, তা আর কোনো ঘটনা দ্বারাই সম্ভব হয়নি। আর সেই চিন্তা হল, আমরা পাশ্ববর্তি দেশ ভারতের দ্বারা শোষনের স্বীকার হচ্ছি। যদিও সাধারণ মানুষ ভারতের শোষণের বিষয়টি ক্ষনে ক্ষনে অনুভব করতে পারতো, কিন্তু কখনোই পুরোপুরি অনুধাবন করতে পারেনি। কারণ, সরকার ক্ষমতায় টিকে থাকার প্রয়োজনে ভারতের তাবেদারি করে গেছে। আর সেই তাবেদারির প্রয়োজনে তারা ভারত কেন্দ্রীক সমস্ত সংবাদ ফিল্টারিং করেছে। যার কারণে একান্তই যারা রাজনীতি সচেতন তারা ভারতের শোষণ উপলব্ধি করতে পারলেও, দেশব্যাপী সকল মানুষ অনুধাবন করতে পারেনি। আর সেই অনুধাবনটি এনে দিয়েছে আবরার ফাহাদের শাহাদাত!
২০১৯ সালের ৭ অক্টোবর, বুয়েটের মেধাবী ছাত্র আবরার ফাহাদকে ছাত্রলীগের সন্ত্রাসীরা রাতভর নির্মমভাবে পিটিয়ে হত্যা করেছিল। তার অপরাধ ছিল দেশপ্রেম এবং ভারত বিরোধীতা! একটা সময় এমন ছিল, যেসব তরুণ ভারত বিরোধী চেতনা লালন করতো তাদের শিবির বলে আখ্যা দেওয়া হতো! কিন্তু আবরার ফাহাদের শাহাদাতের পর গোটা বাংলাদেশের মানুষ ভারত বিরোধী হয়ে গেছে। ভারত বাংলাদেশকে নিজের কলোনী হিসেবে ব্যবহার করছে। আর কলোনীকে হাতে রাখতে তারা নিজেদের পছন্দমত আওয়ামী লীগ সরকারকে ভোটার বিহীণ নির্বাচনের মাধ্যমে ক্ষমতায় টিকিয়ে রেখেছে। আর এই ক্ষমতায় টিকিয়ে রাখার প্রয়োজনে যা যা করা প্রয়োজন ভারত তা-ই করেছে। ভারতের নগ্ন হস্তক্ষেপের কারণে আজ বাংলাদেশের প্রতিটি সেক্টরই ধ্বংস হয়ে গেছে। অথচ সেই ভারতকে এ শ্রেণীর দালাল মিডিয়া বাংলাদেশের পরীক্ষিত বন্ধু প্রমাণে নগ্ন প্রচারণা চালায়।
ভারত কখনোই বাংলাদেশের পরীক্ষিত বন্ধু ছিল না, এখনো নেই। ১৯৭১ সালের স্বাধীনতা যুদ্ধে ভারত আমাদের যে সাহায্য, সহযোগিতা করেছে, তা যতোটা না আমাদের প্রয়োজনে করেছে, তার চেয়ে ঢের বেশি নিজেদের প্রয়োজনে করেছে। ভারতের স্বাধীন বাংলাদেশের প্রয়োজনই ছিল না। ভারতের প্রয়োজন ছিল পাকিস্তানের ভাঙ্গন। কারণ, পাকিস্তানের এতো বিশাল সীমান্ত পাহারা দিতে গিয়ে ভারতের প্রায় ঘুম হারাম অবস্থা হয়েছিল। যার দরুন ১৯৬৫ সালের পাক-ভারত যুদ্ধে ভারতকে নাকানি-চুবানি খেতে হয়েছিল। মূলত, সেই যুদ্ধের পর থেকেই ভারত পাকিস্তান ভাঙ্গার কাজে উঠে পড়ে লাগে। আর তারই অংশ হিসেবে ভারত ১৯৭১ সালে আমাদের সাহায্য করে।
১৯৭১ সালে ভারত কিন্তু বিনামূল্যে আমাদের সাহায্য করেনি। যুদ্ধ শেষে ভারতীয় সৈন্যরা ফিরে যাওয়ার পথে পাকিস্তানি সৈন্যদের ফেলে যাওয়া অস্ত্র, গোলা বারুদ, ট্যাং গাড়ি, সাজোয়া যান সমস্ত কিছু সাথে করে ভারতে নিয়ে গেছে। আর বাংলাদেশ বিজেতা হিসেবে পেয়েছে পাকিস্তানি সৈন্যদের ফেলে যাওয়া পুরনো ইউনিফর্ম!
সেই যে ভারতের শোষণ শুরু হলো, তা আজ অবধি অব্যাহত রয়েছে। ভারত বাংলাদেশের থেকে ট্রানজিট সুবিধা, সমুদ্র বন্দর সুবিধা, শুল্ক মুক্ত বানিজ্য সুবিধা, সমস্ত সুবিধা আদায় করে নিয়েছে। এমনকি ভারতের কয়েক লাখ নাগরিক বাংলাদেশে চাকরি করে জীবিকা নির্বাহ করছে। বিনিময়ে ভারত বাংলাদেশে পেঁয়াজ রপ্তানি বন্ধ করে দিয়েছে। বাংলাদেশের নাগরিকদের ভারতে কাজ করার অনুমতি আব অবধি দেয়নি। অথচ ভারত সমস্তু সুবিধা ভোগ করে যাচ্ছে।
১৯৭১ সালে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে রক্তক্ষয়ি যুদ্ধের মাধ্যমে আমাদের বিজয় অর্জন করতে হয়েছে। এবার যুদ্ধ হবে ভারতের বিরুদ্ধে। এই যুদ্ধ হয়তো সম্মুখ যুদ্ধ হবে না, তাই কৌশলি হতে হবে। আর এই যুদ্ধের প্রথম শহীদ বুয়েটের আবরার ফাহাদ।
লিখেছেন, শাহমুন নাকীব/আলাপন
