সুদানের আল-ফাশের অঞ্চলে আরএসএফের কঠোর অবরোধে তীব্র খাদ্যসংকট, ক্ষুধার জ্বালায় পশু খাদ্য খাচ্ছে হাজার হাজার বেসামরিক

সুদানের উত্তর দারফুর প্রদেশের রাজধানী আল-ফাশের এ ক্রমবর্ধমান মানবিক দুর্দশা আরো প্রকট আকার ধারণ করছে। অঞ্চলটি প্রায় দুই বছরেরও বেশি সময় ধরে সংযুক্ত আরব আমিরাত সমর্থিত কুখ্যাত র্যাপিড সাপোর্ট ফোর্সেস (আরএসএফ) এর সন্ত্রাসীদের অধীনে রয়েছে। আরএসএফের কঠোর সামরিক অবরোধের ফলে কোন খাদ্যসামগ্রী এবং জরুরী ঔষুধ সেখানে প্রবেশ করতে না পারায় চলছে নিরবে দূর্ভিক্ষ। বাধ্য হয়ে ক্ষুধার জ্বালায় পশু খাদ্য খেতে হচ্ছে নারী-শিশুদের।
বিভিন্ন মানবাধিকার কর্মীরা বর্তমান পরিস্থিতিকে কয়েক দশকের মধ্যে সুদানে সবচেয়ে "ভয়াবহ দুর্ভিক্ষের ঢেউ" হিসেবে বর্ণনা করেছেন। সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে, #Save_El_Fasher হ্যাশট্যাগ ব্যবহার করে সেখানকার ভয়াবহ পরিস্থিতি বিশ্বের সামনে তুলে ধরে চাপ সৃষ্টির চেষ্টা করছেন অনেক এক্টিভিস্টরা। যাতে জরুরি মানবিক করিডোর খুলে দেওয়া এবং বৃহত্তর বিপর্যয় ঘটার আগেই সেখানে অবরুদ্ধদের কাছে প্রয়োজনীয় খাদ্য ও ওষুধ প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হয়।
জাতিসংঘের সংস্থাগুলোর অনুমান অনুযায়ী, ২০২৩ সালের এপ্রিল থেকে শুরু হওয়া সুদানের গৃহযুদ্ধে প্রায় ৪০ হাজার মানুষ নিহত এবং প্রায় ১ কোটি ৩০ লাখ মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছে, যার মধ্যে অনেকেই অন্য দেশে আশ্রয় নিয়েছে।
সুদানে যারা থেকে গেছে, তাদের প্রায় অর্ধেক তীব্র খাদ্যসংকটে রয়েছে। দেশটির কিছু অঞ্চলে অপুষ্টিতে ভোগার কারণে মৃত্যুর ঘটনাও ঘটছে। সুদানের ডাক্তারদের নেটওয়ার্ক জানিয়েছে, গত ছয় মাসে উত্তর দারফুর প্রদেশের রাজধানী আল-ফাশের এ অপুষ্টির কারণে ২৩৯ শিশুর মৃত্যু হয়েছে।
এজেযু
